প্রকাশিত: Wed, Jul 26, 2023 9:49 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 9:00 AM

[১]দুই দলই সমাবেশের তারিখ একদিন পিছিয়েছে, নগরবাসীর উৎকণ্ঠা [২]সতর্ক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী

এল আর বাদল: [৩] আজ ২৭ জুলাই রাজধানীতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলো আওয়ামী লীগের সহযোগী তিন সংগঠন এবং বিএনপি। বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলো। আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগ চেয়েছে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইট। পুলিশ উভয় পক্ষের আবেদনই নাকচ করে। 

[৪] ডিএমপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে গোলাপবাগ মাঠে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিএনপি সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। বরং রাত সাড়ে আটটায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তারা সমাবেশ একদিন পিছিয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নয়াপল্টনে এই সমাবেশ হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। 

[৫] অন্যদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে ক্ষমতাসীন দলকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ অথবা মহানগর নাট্যমঞ্চে সমাবেশ করার অনুরোধ: জানানো হয়। 

[৬] এরপর সমাবেশের আয়োজকরা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে খেলার মাঠে সমাবেশের অনুমতি চান। বিশ^বিদ্যালয় তাতে সম্মতি দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনায় বসেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় সমাবেশ হবে আগারগাঁওয়ে। রাতেই তারা মাঠ পরিদর্শনে যান। 

[৭] এর মধ্যে নাটকীয়ভাবে ঘোষণা আসে, ক্ষমতাসীনরাও সমাবেশ একদিন পর করবেন। আগারগাঁও মাঠেই সে সমাবেশ হবে বলে দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানান কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজম। 

[৮] এই পরিস্থিেিত দুই দলের কর্মসূচি নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। নগরবাসীর মনে একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, শুক্রবার কী ঘটতে যাচ্ছে দুই দলের সমাবেশ ঘিরে। 

[৯] বিডিপ্রতিদিন জানায়, পুলিশের কঠোর অবস্থানে থাকার ঘোষণার পরও নাশকতার আশঙ্কা করছে বিএনপি। তবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আওয়ামী লীগ বলছে, যে কোনো মূল্যে রাজপথ দখলে রাখা হবে।

[১০] রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে। সাংগঠনিক শক্তির জানান দিচ্ছে বিএনপি ও আওয়ামীলীগ। একই দিনে প্রধান দুটি দলের সমাবেশের জন্য রাজধানী ঢাকা কতটা উপযুক্ত সে বিষয়টি ভাবার দাবি রাখে। সবকিছু ছাপিয়ে তাদের প্রত্যাশা, রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা দক্ষ হাতে সবকিছু মোকাবিলা করবে। 

[১১] সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রীতিমতো যুদ্ধের দামামা বাজছে। উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে দুই দলের মাঝেই। তাদের এমন আচরণে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত অপরিহার্য। তবে এসব উত্তাপ-উত্তেজনা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করতে পারে। জনগণের স্বার্থে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসবের সমাধান করা উচিত। নইলে পরিস্থিতি যেভাবে-যেদিকে অগ্রসর হচ্ছে জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মধ্যে পড়বে।

[১২] বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হারুন-অর রশিদ বলেন, কী হবে, সেটা সময়ই বলে দেবে। সরকার এখন পর্যন্ত সহনশীল আছে। আর বিএনপিও যে সহজেই সংঘাতে জড়াবে এমনটাও মনে হয় না। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে ততই স্নায়ুচাপ বাড়বে।

[১৩] ঢাকাপোস্ট অনলাইন জানায়, আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবেন। মাঠে সক্রিয় থাকবেন। সংঘাতে জড়াবেন না। তবে যারা সংঘাত করতে আসবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।

[১৪] একাধিক সূত্র বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে রাজপথ দখলের কোনো সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে আশপাশের জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা আসার পথে যেন কোনো রাস্তায় বসে না পড়তে পারে সে জন্য সজাগ ও সতর্ক থাকবে ক্ষমতাসীন দলটি। শান্তি সমাবেশ ছাড়াও পুরো ঢাকা মহানগরী এবং আশপাশের জেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। 

[১৫] এদিকে সরকারের পদত্যাগে এক দফা দাবি আদায়ে আজ রাজধানীর মহাসমাবেশ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করছে বিএনপি। তারা বলছে, নাশকতার জন্য বিএনপির কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়েছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মসূচির দিনেই কেন আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করে? বিএনপি যেদিন কর্মসূচি দেয়, সেদিন কোনো না কোনো লীগও কর্মসূচি ঘোষণা করে। আর কোনো লীগ যদি না থাকে, তখন পুলিশ লীগ তো আছেই। তারা বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা চালায়।

[১৬] দুই দলের সমাবেশ ঘিরে শক্ত অবস্থানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিশৃঙ্খলা দেখলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। 

[১৭] পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ২০১৩-১৪ সালের মতো আগুনসন্ত্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব